দার্জিলিং এর চা বাগান ও বাতাসী লুকের প্রাকৃতিক দৃশ্যের কিছু ফটোগ্রাফি

in hive-129948 •  12 days ago 

বন্ধুরা
আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি, আপনারা সবাই ভালো আছেন। আমরা এই দুইদিন হলো দার্জিলিং থেকে বাড়ি ফিরেছি। সত্যি বলতে আমার আসতেই ইচ্ছা করছিলো না। তারপরও পাহাড়ের সমস্ত টান উপেক্ষা করে আসতেই হবে। কারণ এখানেই তো আমাদের জীবন। আবার সেই পুরোনো দিনগুলিতে ফিরতে হবে। আসলে আসার শরীরটা ভীষণ খারাপ থাকার কারণে আপনাদের সাথে কোন কিছু শেয়ার করতে পারিনি। আজ একটু ভালো লাগছিলো তাই আবার চলে
এলাম নতুন জায়গার ভ্রমণ কাহিনী নিয়ে। আপনারা জানেন আমরা এই এক সপ্তাহ প্রচুর ঘুরেছি আনন্দ করেছি আবার অনেক কেনাকাটি ও করেছি। সত্যি বলতে আমি কোথাও ঘুরতে গেলে সেখান থেকে সবার জন্য কিছু না কিছু আনা হয়। বলতে পারেন এটা অভ্যাস। কারণ আমি আনন্দটা সবার সাথে ভাগ করে নিতে পছন্দ করি। একা একা আনন্দ করতে ভালো লাগে না।

আমরা টাইগার হিল থেকে বেরিয়ে বাতাসী লুক গোয়েছিয়েছিলাম। বাতাসী লুকের পরিবেশটা অনেক সুন্দর ছিলো। চারিদিকে ফুল আর তাল গাছের সারি আবার তার মাঝে মাঝে ঝাউ গাছ ছিলো। সত্যি পরিবেশটা বেশ সুন্দর লাগছিলো। তার ফাঁকে ফাঁকে চা গাছ ছিলো। ওখানে গিয়ে ছেলে মেয়ে সবাই ট্র্যাডিশনাল পোশাক পরে ছবি করছিলো। তাহলে আমি কেনো বাদ যাই। আমি ও পোশাক টি পড়ে নিলাম। আমার প্রিয় মানুষটিকে বললাম।কিন্তু সে কোন ভাবেই রাজি হলো। শুধু সে আমাকে সাজিয়ে আনন্দ পায়। তার নাকি ওসব পোশাক পড়তে ভালো লাগে না। একটু মন খারাপ হলো। কিন্তু কি করা তার যখন ভালো লাগে না। তাই মনের কষ্ট মনেই চাপা রেখে দিলাম। যাই হোক বাতাসী লুকে কিছু সময় ঘোরাঘুরি করে আমরা বেরিয়ে পড়লাম চা বাগানের উদ্দেশ্যে।চা বাগানে পৌঁছায় ভিতরে ঢুকতেই বিশাল আকারের চা বাগান দেখে মনটা ভরে গেলো। আমরা দুজনে চা বাগানের ভেতর দিয়ে সরু পথ বেয়ে অনেক নিচে নেমে গেলাম। আমার একটু কষ্ট হচ্ছিলো কারন আমি খুব হাঁটতে পারি না। তারপর চা। বাগানের ভেতর কিছুটা সময় কাটিতে আমরা বেরিয়ে আসলাম। ভিশন কষ্ট হয়ে গিয়েছিলো। একটু চা খেয়ে এবং সবার জন্য চা কিনে নিয়ে আবার গাড়িতে উঠলাম। এবার আমাদের প্রোগ্রাম ছিলো " রক গার্ডেন"। সেটা পরবর্তী পর্বে আপনাদের সাথে শেয়ার করবো।

IMG_20221119_074108.jpg

IMG_20221119_073557.jpg

IMG_20221119_073521.jpg

IMG-20221119-WA0008.jpg

IMG-20221119-WA0010.jpg

ট্র্যাডিশনাল পোশাক পরে ফুল বাগানের ভেতরে। বাতাদী লুকের প্রাকৃতিক পরিবেশ।

IMG_20221118_134038.jpg

IMG_20221118_134239.jpg

IMG_20221118_135309.jpg

IMG_20221118_135253.jpg

IMG_20221118_134223.jpg
চা বাগানের চারিদিকের পরিবেশ। আর প্রচুর মানুষের সমারোহ।

IMG-20221122-WA0001.jpg

IMG_20221118_134848.jpg
পাহাড়ি অঞ্চলে কলমী ফুল।

IMG_20221118_134901.jpg
অনেক পুরনো বাড়ির ভাঙ্গা অংশ চা বাগানের ভেতরে।

Authors get paid when people like you upvote their post.
If you enjoyed what you read here, create your account today and start earning FREE STEEM!
Sort Order:  

দিদি আপনার সাথে আমিও সহমত পোষণ করছি। আপনার মত আমিও কোথাও ঘুরতে বা বেড়াতে গেলে। সেখান থেকে সবার জন্য কিছু না কিছু উপহার হিসেবে কিনে নিয়ে আসি।আর আনন্দটা সবার সাথে ভাগ করে নিতে চাই। আমিও দার্জিলিংয়ের এই চা বাগানে বেড়াতে গিয়েছিলাম। এবং আপনার মতই এই উনিফর্মিটি পড়েছিলাম।বিনোদনের ছলে আমরা সেখানে অনেক মজা করেছি। আজ আপনার ছবিটা দেখে মনে পড়ে গেল।

IMG_20221123_175517.jpg

received_1990033187967150.jpeg

ট্রেডিশনাল পোশাকে আপনাকে তো বেশ দারুন লাগছে,ইশ দাদা যদি পরতো তাহলে দুইজনকে দেখতে পারলে ভালো লাগতো☺️।আসলে কোথাও গেলে আমারও ভালো লাগে সবার জন্য কিছু কিনে আনতে।পাহাড়ের পরিবেশটা বেশ সুন্দর তাই আসতে ইচ্ছে করছিলো না।বেশ ভালো সময় কাটিয়েছেন সব মিলে।ধন্যবাদ

পাহাড়ি মেয়েটিকে দেখতে কিন্তু ভীষণ সুন্দর লাগছে বৌদি 😅😅। প্রথমে দেখে তো ভেবেছিলাম পাহাড়ি কোন মেয়ে। আর ভাবছিলাম পাহাড়ি মেয়ে তো দারুন দেখতে। এর পর দেখি এটা আর কেউ নয় আমাদের বৌদি। আসলে কোথাও ঘুরতে গেলে সত্যিই অনেক ভালো লাগে। কিন্তু যখন বাসায় ফেরা হয় তখন মন খারাপ হয়ে যায়। অনেক ঘুরাঘুরি করেছেন তাই শরীর একটু খারাপ লাগছে। যাইহোক বৌদি দারুন সব ফটোগ্রাফি গুলো শেয়ার করেছেন এজন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

দিদি ট্রেডিশনাল পোশাকে আপনাকে অনেক সুন্দর লাগছে আপনি অনেক দারুন কিছু ফটোগ্রাফির মাধ্যমে সেখানের পরিবেশ সম্পর্কে জানিয়েছেন দারুন ছিল পুরো টা।

বেশ ভালো লাগছে বৌদি আপনাদেরকে পাহাড়ি লুকে। পাহাড়ি অঞ্চলের জংলি কলমি ফুল, ঝাউ গাছ আর পাহাড়ি প্রকৃতির এসব প্রাকৃতিক পরিবেশ ছেড়ে কারি বা ফিরে আসতে মনে চায়। ফটোগ্রাফি গুলো ছিল দুর্দান্ত। ধন্যবাদ বৌদি আপনাকে।

সত্যি বলতে আমি কোথাও ঘুরতে গেলে সেখান থেকে সবার জন্য কিছু না কিছু আনা হয়। বলতে পারেন এটা অভ্যাস।

বৌদি আমার জন্য কি এনেছেন আমি কি জানতে পারি? হাহাহাহা নিশ্চয়ই খুবই চমৎকার কিছু হবে।
সত্যি বলতে বলি খুবই দারুণ চমৎকার চমৎকার ফটোগ্রাফি আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন। আর বিশেষ করে পাহাড়ি পোশাকে আপনাকে কিন্তু দারুণ লাগছে। যদিও পোশাকটি দাদার পছন্দ ছিল না, তার পরেও দাদাকে বলবো মন খারাপ না করে বৌদিকে চোখ খুলে দেখতে তাহলে অবশ্যই মনটা ভালো হয়ে যাবে।

আশা করছি দ্রুত সুস্থ্য হয়ে উঠবেন এবং ভ্রমণের সুন্দর সুন্দর অনুভূতির পোষ্ট পড়তে পারবো। হ্যা, দৃশ্যগুলো সত্যি অসম্ভব সুন্দর লাগছিলো, যেন শিল্পীর তুলিতে আকা কোন দৃশ্য। তবে স্থানীয় পোষাকে আপনাকে কিন্তু বেশ বানিয়েছে বৌদি, বেশ সুন্দর লাগছে। ধন্যবাদ

আপনার একা আনন্দ করতে ভালো লাগে না,তাই সবার জন্য অনেক কেনাকাটা করেছেন।এটা অনেক ভালো লেগেছে বৌদি। আপনার মতো বৌদি প্রতিটি ঘরে থাকলে সত্যি অনেক ভালো হতো।তবে বৌদি বাতাসী লুকের পরিবেশ টা দেখতে কিন্তু সত্যি দারুন ছিল।ট্রেডিশনাল পোশাকে সুন্দর লাগছে আপনাকে অনেক।দাদা পড়লে আরও ভালো লাগতো।তবে দাদা তো আপনাকে সাজিয়ে আনন্দ পাই।কিন্তু নিজে পরেন না দাদা পরলেন না ।রক গার্ডেন এর অপেক্ষায় রইলাম বৌদি ওটা নিশ্চয় সুন্দর ছিল দেখতে।দার্জিলিং সত্যি অনেক সুন্দর গল্প শুনেছিলাম,আপনার আর দাদার পোস্টের মাধ্যমে আরও প্রেমে পরে গেলাম জায়গাটির।ধন্যবাদ আপনাকে বৌদি সুন্দর ব্লগটি শেয়ার করার জন্যে।

বাতাসী লুকের পরিবেশটা অত্যন্ত সুন্দর লাগছে বৌদি যা তোমার ফটোগ্রাফিতে আমরা দেখতে পাচ্ছি। সেই জায়গার খুব সুন্দর বর্ণনাও করেছ তুমি যা পড়ে বেশ ভালো লাগলো। ট্র্যাডিশনাল পোশাক পরে তোমাকে বেশ সুন্দর লাগছে দেখতে। যদিও দাদা এই ট্রেডিশনাল পোশাক পরতে রাজি হয়নি তাই তোমার একটু মন খারাপ হয়েছিল । দাদা আর তুমি একসাথে এই ট্রেডিশনাল পোশাক পরে ছবি দিলে খুব ভালো হত।

Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.

বাহ বৌদি আপনাকে তো দেখতে দারুণ কিউট লাগছে।আর,ট্রেডিশনাল লুকে যে আপনাকে এতোটা মানাবে তা তো জাস্ট ভাবতেই পারিনি।কবে যে যাবো এতো সুন্দর প্লেস এ!

প্রিয় বৌদি সত্যি বলতে আপনাকে যা লাগছে না ৷৷ যদি দাদা সহ ওই পোশাখে ছবি তুলতেন ৷ তাহলে যে আরও কতটা ভালো লাগতো তা আসলে বলে শেষ করার মতো না ৷ তবে এটা ঠিক শরীর যাই হোক না কেন কোনো প্রিয় জায়গায় গেলে মন হয়ে চাঙ্গা ৷ সত্যি ফটোগ্রাফি দারুন ছিল ৷

প্রকৃতির অপরূপ সুন্দর ফটোগ্রাফি গুলো আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। এত সুন্দর সুন্দর ফটোগ্রাফি দেখে খুবই ভালো লাগলো। বিশেষ করে ট্রেডিশনাল পোশাক পরে বাগানের ভিতর দাঁড়িয়ে আছে।দেখে আমার খুবই ভালো লেগেছে।

দিদি এক সাপ্তাহ ভ্রমন করে জার্নি করে এসেছেন তাই শরীর ক্লান্ত লাগছে। আশা করি খুব তারাতারি সুস্থ হয়ে আমাদের সাথে সুন্দর সুন্দর ছবি গুলো সেয়ার করবেন। ট্র্যাডিশনাল পোশাক পরে ফুল বাগানের ভেতরে আর তাল গাছের নিচে আপনাকে অনেক সুন্দর লাগছে। দার্জিলিং খুব সুন্দর জায়গা। যত দেখছি ততই যাওয়া আগ্রহ বাড়ছে। ধন্যবাদ দিদি।

চা বাগানের পাহাড়ি নতুন কন্যাটাকে দেখে কেন জানি আশ্চর্য হয়ে গেলাম। বলতে হবে দাদার পছন্দ আছে। তবে বৌদি আপনাকে অসাধারণ লাগছে। সেই সাথে প্রত্যেকটা ফটোগ্রাফি যেন এক একটা দারুন থিমস। আমাদেরকে এত সুন্দর ফটোগ্রাফি গুলোর সাথে আপনার অনুভূতিগুলো শেয়ার করার জন্য, আপনার প্রতি রইল ভালোবাসা অবিরাম।

চা বাগানের ভিতরের পরিবেশটা বেশ সুন্দর! ট্রাডিশনাল পোশাক পরে সুন্দর দেখাচ্ছে দিদি। দাদা যদি পড়তো তাহলে আরও ভালো লাগতো। তবে চা বাগানের সৌন্দর্যটা খুব কাছ থেকে উপভোগ করেছেন সাথে আমরাও উপভোগ করতে পারলাম 🌼

বৌদি আপনাকে দেখে মনে হচ্ছে সত্যিই চা বাগানে চা তুলতে যাবেন। এত মিষ্টি লাগছে দেখতে!কিছু কিছু মানুষকে মানায় না এই ধরেনের ড্রেসগুলো পড়লে। কিন্তু তাও শখে পরে। যাতে একটা স্মৃতি থাকে। কিন্তু আপনাকে এত পারফেক্ট লাগছে, আমি বেশ দু তিনবার আপনার ছবিটা দেখলাম। আর সত্যি পাহাড়ের গায়ে এরকম ধাপ কেটেও যে চাষ করে বিশ্বে চা চাষের জন্য স্থান অধিকার করা যায় ,আমরাই দেখাতে পারলাম।